Monday, August 16, 2021

নারায়নগঞ্জে সজীব গ্রুপের কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন, বিপদজনক কর্মপরিবেশ 

এর বিষয় অধিকতর তদন্তসহ আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে।

- সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি

অদ্য ১৬ আগষ্ট ২০২১ তারিখ রোজ সোমবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবে সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নারায়নগঞ্জে সজীব গ্রুপের এর কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন, বিপদজনক কর্মপরিবেশ এর বিষয় অধিকতর তদন্তসহ আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করার দাবি জানানো হয়। সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির আহŸায়ক আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কমিটির সদস্য সচিব গোলাম ছরোয়ার। 

লিখিত বক্তব্যে সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির পক্ষ থেকে সজীব গ্রুপের কারখানায় সংগঠিত অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনকে স্বাগত জানিয়ে বলা হয় তদন্ত প্রতিবেদনে সজীব গ্রুপের কারখানায় কর্তৃপক্ষের আইন লঙ্ঘন, শিশু শ্রমিক নিয়োগ, অনিরাপদ  কর্মসংস্থান, বিপদজনক কর্মপরিবেশ বজায় রাখাসহ কোম্পানীর ধারাবাহিক নানা অপরাধমূলক অনিয়ম ও অবহেলার কারণে এই শ্রমিক হত্যাকান্ড ঘটানোর বিষয়ে সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির বক্তব্য নিশ্চিত করেছে ও প্রমাণিত হয়েছে। এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে এটা পরিষ্কার সজীব গ্রুপের কারখানাটিতে কি ঘটেছিল। এখন সবার জানা দরকার কেন উক্ত কারখানায় শিশু শ্রমিক নিয়োজিত ছিল? কেন সেখানে অনিরাপদ কর্মসংস্থান ছিল? সরকারী দায়িত¦প্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ কেন সজীব গ্রুপের কারখানায় নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও শোভন কাজ নিশ্চিত করতে পারেনি? কেন সজীব গ্রুপ কর্তৃপক্ষ  তাৎপর্যপূর্ণভাবে সরকারী বিভিন্ন সংস্থার নিয়ম কানুন, আইন ও বিধি বিধান লঙ্ঘন করেছে? কেন হাসেম ফুড র্কতৃপক্ষ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বিভাগের অগ্নি নিরাপত্তা প্লান বাস্তবায়ন করে নাই? 

সংবাদ সম্মেলনে, শ্রমিকের অধিকার এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উত্তর জানা দরকার উল্লেখ করে অধিকতর তদন্ত, নিখোঁজ শ্রমিকদের ব্যাপারে তদন্ত এবং ১০ জুন ২০২১ আর্ন্তজাতিক লেবার কনফারেন্সে সরকারের প্রতিশ্রুত আইএলও রোডম্যাপ বাস্তবায়নে ত্রিপক্ষীয় তদারকি কমিটি গঠনের দাবি করা হয়। নিহত ও আহত তথা ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে আইএলও কনভেনশন ১২১ অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি হাসেম ফুডস এ কর্মরত সকল শ্রমিককে বকেয়া বেতন, বকেয়া ওভারটাইমসহ তাদের প্রতি মাসের বেতন পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়। নিহত শ্রমিক পরিবারের কোন সদস্যকে সজীব গ্রিুপের অন্য ফ্যাক্টরিতে চাকরি দেওয়ার বিষয় নারায়নগঞ্জ জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটির সুপারিশ একটি ভালো সমাধান। তবে সজীব গ্রুপের অন্য কারখানায় নিহত শ্রমিকের পরিবারের সদসের কর্মসংস্থানের পূর্বে সজীব গ্রুপের সকল কারখানায় বিপদজনক কর্মপরিস্থিতি, শ্রমিকদের পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, বাংলাদেশ শ্রমআইন এবং শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন ও তাদের অপরাধমূলক অবহেলার বিষয় স্বচ্ছ তদন্ত করার জন্য পুনরায় সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়।  

উক্ত সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির অন্তর্ভ‚ক্ত খাদ্য ও কৃষি শ্রমিকদের ৮টি ইউনিয়ন এর প্রতিনিধি এবং হাসেম ফুডস লিঃ এর অগ্নিকান্ডের ট্রাজেডিতে ভুক্তভোগী শ্রমিক, শ্রমিক পরিবারের সদস্যবৃন্দ।






Monday, July 19, 2021

হাসেম ফুড কারখানায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির মানসিক

বিপর্যয় এবং চরম অর্থনৈতিক দূরবস্থার সুযোগ নিচ্ছে সজীব গ্রুপ

- সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি

সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি অভিযোগ করেছে সরকারী বিভিন্ন সংস্থা কর্তৃক তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এবং কোনও স্বাধীন পাবলিক তদন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার আগে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলির মানসিক বিপর্যয় এবং চরম অর্থনৈতিক দূরবস্থার সুযোগ নিয়ে সজীব গ্রুপ তাদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দায়বদ্ধতা অস্বীকার করার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবারগুলোকে আরও আর্থিক দাবি বা ক্ষতিপূরণের অধিকার ছেড়ে দিতে বাধ্য করছে। সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ জুলাই সজীব গ্রুপের কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের পরিবার ভবিষ্যতে আর কোনও ধরণের ক্ষতিপূরণ বা সহায়তা চাইতে পারবে না সজীব গ্রুপ কর্তৃক নির্ধারিত এই শর্তে, ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ১৬ জুলাই থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত ২৪ জন নিহতের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকার চেক প্রদান করছে। ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিক পরিবারগুলোর অভিযোগ, তাদেরকে শুধু স্বাক্ষর করতে বলছে। স্বাক্ষরকারীদের বেশিরভাগই স্ট্যাম্পে কি লেখা আছে তা পড়তে পারেনি এবং কাউকেই কোন অনুলিপি দেওয়া হয় নাই। যারা এই শর্তে স্বাক্ষর করতে রাজি হয় নাই তাদেরকে চেক প্রদান করা হয় নাই।

সজীব গ্রুপের আইন লঙ্ঘনের বিষয় তদন্তাধীন রয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ড সহ ফৌজদারি অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং এই বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটির আশঙ্কা, সজীব গ্রুপ তাদের অপরাধমূলক কর্মকন্ডের দায় থেকে বাচার জন্য এবং ক্ষতিগ্রস্থ শ্রমিকদের ন্যায় সঙ্গত ও যথার্থ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত করার জন্য ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যদের দ্বারা স্বাক্ষরিত উক্ত স্ট্যাম্প একটি বৈধ আইনী দলিল হিসাবে উপস্থাপন করবে এবং আইনত বাধ্যতামূলক বলে এই পরিবারগুলি আরও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার হীন উদ্দেশ্য নিয়ে এই কাজ করছে।

সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি, সজীব গ্রুপের এই প্রতারনা মূলক পদক্ষেপকে অনৈতিক ও অবৈধ বলে নিন্দা জানায়। সজীব গ্রুপের ফ্যাক্টরিতে কী ঘটেছিল, কেন ঘটেছিল এবং কোন অব্যাবস্থার কারনে শ্রমিকদের প্রানহানির ঘটনা ঘটল এ বিষয় সমন্বিত তদন্তের একটি অংশ হিসাবে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করতে হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয় এবং এই জন্য একটি স্বাধীন পাবলিক তদন্ত কমিটি গঠনের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সজীব গ্রুপ ওয়ার্কার্স জাস্টিস কমিটি দাবি করে স্বাধীন পাবলিক তদন্ত কমিটি ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের ভিত্তি হিসাবে কর্মস্থলে আঘাতজনিত সুবিধা বিষয়ক আইএলও কনভেনশন ১২১ সহ আরো কয়েকটি ব্যবস্থার বিষয় উল্লেখ করবে। কোনও শ্রমিকের জীবন মূল্য ২ লক্ষ টাকা এটা সজীব গ্রুপ নির্ধারণ করতে পারে না।



Saturday, July 10, 2021

 10 July, 2021

Press Release

The Sajeeb Group Workers Justice Committee condemned the tragic death of workers due to hazardous and unsafe working conditions in Sajeeb Group factory.


Sajeeb Group Workers Justice Committee (SGWJC) has expressed deep concern and condemnation over the death of 52 workers, missing of more than 50 workers and injury of hundred more workers in the fire at the factory of Hashem Foods Ltd. under Sajeeb Group in Rupganj, Narayanganj. The Sajeeb Group Workers' Justice Committee, formed by representatives of trade unions in the agricultural and food processing industries in Bangladesh, says that the horrific fires occurred due to non-compliance with proper laws, health and safety regulations and the fires become terrible due to storing highly flammable materials and plastics in the Sajeeb Group factory. Survivors reported that more than 50 workers were killed since the roof gates of the factory were locked, the 3rd floor was locked keeping workers inside and there was no point to escape. SGWJC demanded that it is clear the Sajeeb Group authority have violated workers’ basic right to health and safety by maintaining a dangerous and unsafe working environment in the factory. The SGWJC said in their statement that Sajeeb Group, which failed to provide a safe working environment for the workers that led to the tragic deaths of workers, should be held responsible for killing and injuring the workers. In the interest of ensuring justice for the workers of Sajeeb Group, Sajeeb Group Workers Justice Committee made the following demands:

1. To investigate the violation of workers’ rights, including health and safety rights at the Hashim Foods factory as well all factories operated under Sajeeb Group and to take legal action against the culprits.

2. To provide proper medical treatment to the injured workers in the fire and to provide compensation to the injured and deceased workers’ families in accordance with ILO Convention 121.

 Names of Unions and Federations represented in the Sajeeb Group Workers Justice Committee:

1. Unilever Employees Union (Reg. No. B-1122)

2. Transcom Beverages Ltd. Sramik-Kormochri Union (Reg. No. D-2107)

3. Coca-Cola Employees Union (Reg. No. Mymon-47)

4. Nestle Employees Union (Reg. No. Dhaka-5270)

5. Parfetti Van Mele Bangladesh Pvt. Ltd. Employees Union (Reg. No. Dhaka-5360)

6. Jatio Kisani Sramik Samiti (Reg. No. S-13521)

7. Bangladesh Agricultural Farm Labour Federation (Reg. No. B-1759)

8. Bangladesh Sramajibi Kendra (Reg. No. Ba. Ja. Fe.-36)

 

Message sender

 

Golam Sorowor

Member Secretary

Sajeeb Group Workers Justice Committee




Friday, December 18, 2020

 

অভিবাসী কর্মীদের নিজ দেশে কর্মরত দেশের অর্থনীতিতে অবদানের স্বীকৃতি প্রদান করুন

আজ, শুক্রবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০২০, সকাল ১০ ঘটিকায়, ব্রি-গাজীপুর বাংলাদেশের কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন আয়োজিত আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা অভ্যন্তরীণ আন্তর্জাতিক অভিবাসন নীতি প্রনয়ন, বাংলাদেশের উন্নয়নে শ্রমিকদের অবদানের স্বীকৃতি, তাদের প্রাপ্য অধিকারসমূহও নিশ্চিত করা, বাংলাদেশের কার্যকর অভিবাসন কূটনীতি প্রণয়ন করা, দেশমাতৃকার উন্নয়নে শ্রমিকদের ঘাম-ঝরানো অর্থের যথোপযুক্ত স্বীকৃতি সম্মান দেওয়া এবং স্বদেশের উন্নয়নে তারা আরো বেশি ভূমিকা রাখতে পারে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সেই সত্তরের দশক থেকে পর্যন্ত বিশ্বের ১৭৩টি দেশে বাংলাদেশ থেকে প্রায় কোটি ২০ লক্ষ শ্রমিক গেছেন। তাঁদের অধিকাংশই গেছেন মধ্যপ্রাচ্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে। বিশ্বজুড়ে আজ অভিবাসন ইস্যু প্রধান আলোচ্য বিষয়। বিশ্বে প্রতি সাত জনে একজন ব্যক্তি অভিবাসী। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় অভিবাসনকে প্রভাবিত করছে। ছাড়াও দুর্যোগে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস নদী ভাঙনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন বাড়ায় মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এই সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ অভিবাসনের প্রধান কারণ। আইওএম এর সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, খুলনায় ৪৭ শতাংশ ঘূর্ণিঝড়ের কারণে, মাটিতে লবণাক্ততায় ৪৪ শতাংশ, পানিতে লবণাক্ততায় ৪৩ শতাংশ, নদীর ভাঙনে ১০ শতাংশ; পটুয়াখালীতে ঘূর্ণিঝড়ে ৪৪ শতাংশ, পানিতে লবণাক্ততায় ১৮ শতাংশ মাটিতে লবণাক্ততায় ১৫ শতাংশ মানুষ অভিবাসনে বাধ্য হয়ে এলাকা ছেড়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিশাল একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গ্রাম থেকে শহরে ছুটছে। গ্রাম থেকে শহরে ছুটে যাওয়ার (অভিবাসন) প্রবণতাকে নিরুৎসাহিত করে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকান্ড নিয়ে যেতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন মোঃ মামুন হেসেন, গোলাম ছরোয়ার প্রমূখ। সমাবেশ থেকে ভারতে চলমান কৃষকদের প্রতিবাদের প্রতি সমর্থন সংহতি প্রকাশ করা হয়।











Thursday, October 15, 2020

টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্মসৃজন সহ কৃষক এবং শ্রমিকদের

অধিকার জীবিকা সুরক্ষার জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

আজ ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশের কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতি আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনায় বক্তারা কৃষি খাতকে সবচেয়ে অগ্রাধীকারযোগ্য খাত হিসেবে বিবেচনা করে কৃষিখাতে সব ধরনের উপকরণ এর সহলভ্যতা, উৎপাদন প্রণোদনা, ঋণ মওকুফ, বিনাসুদে কৃষি ঋণ প্রদানসহ কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সকল কার্যক্রম চালু রাখা, একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়া, কৃষি পণ্য সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা, এবং প্রান্তিক কৃষক এবং খামার শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকার সুরক্ষা, পরিবেশগত সুরক্ষা জলবায়ু কর্মোদ্যোগ আহ্বান জানিয়েছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি বলেনবিএনপি- সাইফুর রহমান চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভাতের বদলে কপি খেতে বলেছিলেন, এক ত্রগারোর জেনারেল মঈনুদ্দিন ভাতের বদলে আলু খেতে বলেছিলেন, এখন কপির দাম মানুষের নাগালের বাইরে, আর চাল আর আলুর দাম সমান সমান। সুতরাং ভাতের  বদলে কপি খাবে, অথবা আলু খাবে তার উপায় নাই। চালের দামের উর্ধগতির কারণে থালায় ভাতের পরিমাণ যেমন কমেছে, তেমনি আলুর দাম বেঁড়ে যাওয়ায় মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা দিয়ে পেট তারও উপায় নাই। বাজার সিন্ডিকেট এতই প্রবল যে সরকার চালের দাম, আলুর দাম বেধে দিলেও তাতে থোরাই কেয়ার করছে তারা। এই অবস্থায় বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় নাই। আর সরকারকে এখানে মজুতবিরোধী আইন, ভোক্তা অধিকার আইনের কঠোর প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

মেনন খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে বলেন, গুদামে- মিলে চাল থাকলেই চলবে না। সেই চালে মানুষের অধিগম্যতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে উদ্বৃত্ত চাল আছে কিন্তু দাম বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুকির মুখে। যে কোন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে খাদ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পরবে।

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক। আলোচনায় আরো অংশ নেন আইইউএফ এশিয়া/প্যাসিফিক এর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর নাসরিন সুলতানা, জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি লিলা খানম, কোষ্ট ট্রাস্ট এর ডেপুটি ডিরেক্টর, মোঃ মুজিবুল হক মুনির, নেসলে এমপ্লইজ ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান এবং মোঃ মামুন হোসেন সহ কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ‘আমরা যখন বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করছি বাংলাদেশ তখন ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দিকে যাচ্ছে। কভিড-১৯ কালে বাংলাদেশের মানুষকে খাওয়ার ব্যবস্থা করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যারা পালন করেছে সেই কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ আজ নিজেদের খাবার খেতে পারছে না। যেই ফার্ম শ্রমিকরা গবেষনার কাজে সহযোগিতার কারনে কৃষিতে অনেক মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে, আজ সেই ফার্ম শ্রমিকদের অস্থায়ী শ্রমিকে পরিনত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ করি।তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আজকে সবচেয়ে হুমকি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। বাংলাদেশে খাদ্য থাকা সত্তে¡ এই সিন্ডিকেট চক্রান্ত করে দেশকে খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে

নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘কভিড-১৯ এর ক্রমবর্ধমান সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তারকারী বিশ্বব্যাপী কৃষি-খাদ্য কর্পোরেশনগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে এবং তাদের লাভ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তারা যার ভিত্তিতে ব্যবস্থাটি পুনরুদ্ধার করতে চায় তা উচ্চ মূল্যের ব্র্যান্ড এবং পণ্য; স্বল্প আয় এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য; উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং বিষাক্ত কীটনাশক; অস্থিতিশীল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কৃষি এবং পরিবেশ ধ্বংস যা কৃষি শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক এবং তাদের সম্প্রদায়কেদীর্ঘস্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি করে।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদন এর বিষয় উল্লেখ করে জনাব নাসরিন আরো বলেন, ‘আমরা যেভাবে কৃষি উৎপাদন করি এবং বিশ্বকে খাওয়াই তা যদি পরিবর্তন না করি তবে আমরা পরবর্তী মহামারিটিও তৈরি করব যা করোনাভাইরাস সৃষ্ট কভিড-১৯ জাতীয় রোগের উত্থান এবং বিস্তারকে বৃদ্ধি করবে। পরবর্তী মহামারি প্রতিরোধ করতে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকট প্রতিরোধ করতে আমাদের অবশ্যই বিদ্যমান বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থাকে অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে এবং খাদ্য সুরক্ষা পুষ্টির সার্বজনীন অধিকার থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যাপক অধিক অধিকার-ভিত্তিক, পরিবেশগত টেকসই বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি লিলা খানম বলেন, ‘খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার জন্য সরকারের ব্যপক ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা নিতে হবে এবং এই কর্মপরিকল্পনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, নারী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এদেরকে বাদ দিয়ে, এদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, কর্মসংস্থানের সুরক্ষা না করে, তাদের জীবিকা সুরক্ষা না করে, তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, খাদ্য ব্যবস্থা কোন ভাবেই টেকসই করা সম্ভব নয়। সুতরাং সরকারকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরি এবং কৃষি খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নারীর প্রতি সহিসংসতা বন্ধ করা কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি এবং ভূমির উপর তার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

জনাব মোঃ মুজিবুল হক মুনির বলেন, ‘খাদ্য সংসম্পূর্ণতা অর্থবহ করতে হলে অবশ্যই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তাসহ ন্যায্য মজুরি প্রদান করতে হবে।