Thursday, October 15, 2020

টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কর্মসৃজন সহ কৃষক এবং শ্রমিকদের

অধিকার জীবিকা সুরক্ষার জন্য সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান

আজ ১৫ অক্টোবর বাংলাদেশের কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতি আয়োজিত বিশ্ব খাদ্য দিবসের আলোচনায় বক্তারা কৃষি খাতকে সবচেয়ে অগ্রাধীকারযোগ্য খাত হিসেবে বিবেচনা করে কৃষিখাতে সব ধরনের উপকরণ এর সহলভ্যতা, উৎপাদন প্রণোদনা, ঋণ মওকুফ, বিনাসুদে কৃষি ঋণ প্রদানসহ কৃষকের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সকল কার্যক্রম চালু রাখা, একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্য মূল্য পাওয়া, কৃষি পণ্য সরবরাহ চেইন ঠিক রাখা, এবং প্রান্তিক কৃষক এবং খামার শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা, জীবিকার সুরক্ষা, পরিবেশগত সুরক্ষা জলবায়ু কর্মোদ্যোগ আহ্বান জানিয়েছেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি জননেতা কমরেড রাশেদ খান মেনন এমপি বলেনবিএনপি- সাইফুর রহমান চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ভাতের বদলে কপি খেতে বলেছিলেন, এক ত্রগারোর জেনারেল মঈনুদ্দিন ভাতের বদলে আলু খেতে বলেছিলেন, এখন কপির দাম মানুষের নাগালের বাইরে, আর চাল আর আলুর দাম সমান সমান। সুতরাং ভাতের  বদলে কপি খাবে, অথবা আলু খাবে তার উপায় নাই। চালের দামের উর্ধগতির কারণে থালায় ভাতের পরিমাণ যেমন কমেছে, তেমনি আলুর দাম বেঁড়ে যাওয়ায় মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা দিয়ে পেট তারও উপায় নাই। বাজার সিন্ডিকেট এতই প্রবল যে সরকার চালের দাম, আলুর দাম বেধে দিলেও তাতে থোরাই কেয়ার করছে তারা। এই অবস্থায় বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই করা ছাড়া মানুষের আর কোন উপায় নাই। আর সরকারকে এখানে মজুতবিরোধী আইন, ভোক্তা অধিকার আইনের কঠোর প্রয়োগে এগিয়ে আসতে হবে।

মেনন খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে বলেন, গুদামে- মিলে চাল থাকলেই চলবে না। সেই চালে মানুষের অধিগম্যতা আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে উদ্বৃত্ত চাল আছে কিন্তু দাম বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুকির মুখে। যে কোন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে খাদ্যব্যবস্থা ভেঙ্গে পরবে।

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতির সভাপতি মাহমুদুল হাসান মানিক। আলোচনায় আরো অংশ নেন আইইউএফ এশিয়া/প্যাসিফিক এর ন্যাশনাল কো-অর্ডিনেটর নাসরিন সুলতানা, জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি লিলা খানম, কোষ্ট ট্রাস্ট এর ডেপুটি ডিরেক্টর, মোঃ মুজিবুল হক মুনির, নেসলে এমপ্লইজ ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আব্দুল মান্নান এবং মোঃ মামুন হোসেন সহ কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ।

মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ‘আমরা যখন বিশ্ব খাদ্য দিবস পালন করছি বাংলাদেশ তখন ভয়াবহ খাদ্য সংকটের দিকে যাচ্ছে। কভিড-১৯ কালে বাংলাদেশের মানুষকে খাওয়ার ব্যবস্থা করে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যারা পালন করেছে সেই কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষ আজ নিজেদের খাবার খেতে পারছে না। যেই ফার্ম শ্রমিকরা গবেষনার কাজে সহযোগিতার কারনে কৃষিতে অনেক মৌলিক পরিবর্তন হয়েছে, আজ সেই ফার্ম শ্রমিকদের অস্থায়ী শ্রমিকে পরিনত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আমরা এর তিব্র প্রতিবাদ করি।তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আজকে সবচেয়ে হুমকি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। বাংলাদেশে খাদ্য থাকা সত্তে¡ এই সিন্ডিকেট চক্রান্ত করে দেশকে খাদ্য সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে শাস্তি দিতে হবে

নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘কভিড-১৯ এর ক্রমবর্ধমান সংকটের প্রতিক্রিয়া হিসাবে, বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থায় আধিপত্য বিস্তারকারী বিশ্বব্যাপী কৃষি-খাদ্য কর্পোরেশনগুলি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করতে এবং তাদের লাভ পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে। তারা যার ভিত্তিতে ব্যবস্থাটি পুনরুদ্ধার করতে চায় তা উচ্চ মূল্যের ব্র্যান্ড এবং পণ্য; স্বল্প আয় এবং গ্রামীণ দারিদ্র্য; উচ্চ উৎপাদনশীলতা এবং বিষাক্ত কীটনাশক; অস্থিতিশীল ইন্ডাস্ট্রিয়াল কৃষি এবং পরিবেশ ধ্বংস যা কৃষি শ্রমিক, প্রান্তিক কৃষক এবং তাদের সম্প্রদায়কেদীর্ঘস্থায়ী খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি করে।

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা ২০২০ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদন এর বিষয় উল্লেখ করে জনাব নাসরিন আরো বলেন, ‘আমরা যেভাবে কৃষি উৎপাদন করি এবং বিশ্বকে খাওয়াই তা যদি পরিবর্তন না করি তবে আমরা পরবর্তী মহামারিটিও তৈরি করব যা করোনাভাইরাস সৃষ্ট কভিড-১৯ জাতীয় রোগের উত্থান এবং বিস্তারকে বৃদ্ধি করবে। পরবর্তী মহামারি প্রতিরোধ করতে এবং বৈশ্বিক খাদ্য সংকট প্রতিরোধ করতে আমাদের অবশ্যই বিদ্যমান বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থাকে অবশ্যই পরিবর্তন করতে হবে এবং খাদ্য সুরক্ষা পুষ্টির সার্বজনীন অধিকার থেকে শুরু করে সামাজিক সুরক্ষা এবং ব্যাপক অধিক অধিকার-ভিত্তিক, পরিবেশগত টেকসই বিশ্ব খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অবশ্যই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সভাপতি লিলা খানম বলেন, ‘খাদ্য সংকট মোকাবেলা করার জন্য সরকারের ব্যপক ভিত্তিক কর্ম পরিকল্পনা নিতে হবে এবং এই কর্মপরিকল্পনার একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কৃষক, কৃষি শ্রমিক, নারী এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।এদেরকে বাদ দিয়ে, এদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, কর্মসংস্থানের সুরক্ষা না করে, তাদের জীবিকা সুরক্ষা না করে, তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে, খাদ্য ব্যবস্থা কোন ভাবেই টেকসই করা সম্ভব নয়। সুতরাং সরকারকে গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরি এবং কৃষি খাতে সরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং নারীর প্রতি সহিসংসতা বন্ধ করা কৃষক হিসেবে নারীর স্বীকৃতি এবং ভূমির উপর তার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

জনাব মোঃ মুজিবুল হক মুনির বলেন, ‘খাদ্য সংসম্পূর্ণতা অর্থবহ করতে হলে অবশ্যই কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে হবে এবং শ্রমিকদের কাজের নিশ্চয়তাসহ ন্যায্য মজুরি প্রদান করতে হবে।




Friday, July 3, 2020


পাটকলগুলোতে কর্মরত পাটকল শ্রমিকদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন এর পক্ষ থেকে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত।

২ জুলাই ২০২০, গাজীপুর:
সম্প্রতি, সরকার অব্যাহত লোকসানের কথা তুলে ধরে ২৫টি রাষ্ট্রায়াত্ত পাটকল বন্ধ করে প্রায় পঁচিশ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক কর্মসূচির মাধ্যমে অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর প্রতিবাদে এবং পাটকল শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি একাত্বতা ঘোষনা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন; করোনাভাইরাস দুর্যোগের প্রেক্ষাপটে মানুষ যখন দিশেহারা, যখন বেসরকারি খাতে অনেকে চাকরি হারাচ্ছেন, তখন সরকার এটিকে সুযোগ হিসাবে নিয়েছেন। এই ধরনের সিদ্ধান্ত অন্যায্য ও অযৌক্তিক। কোনও অজুহাতেই সরকারি পাটকল বন্ধ না করে কলগুলোয় উন্নত প্রযুক্তির আধুনিক মেশিন সংযোজন করে পাটকল চালু রাখতে হবে। কর্মকর্তাদের দুর্নীতির দায় শ্রমিকরা নিতে পারে না। দুর্নীতি কমাতে পারলেই পাটকলগুলোকে আর লোকসানের ঘানি টানতে হবে না।






Monday, April 20, 2020

BAFLF & NWFA demand basic income guaranty for agriculture workers and unconditional cash incentive for small scale farmers affected by COVID-19 outbreak.

Bangladesh Agricultural Farm Labour Federation General Secretary Abdul Mazid and National Women Farmers and Workers Association General Secretary Rima Akther in a joint statement, call upon Govt. to guarantee basic wage incentives payment to agricultural workers including workers engaged in informal work and special bailout that include unconditional cash payment and relief for small scale and marginal farmers impacted by COVID-19.

The statement mention the the global pandemic coronavirus first hit on working people. The impact of this crisis on the people in agricultural communities is significant. Country-wide lockdowns, public transportation closure, and emergency movement control measures threaten the incomes and livelihoods of agriculture workers and farmers including informal sectors workers, their health and safety and those of their family members. Workers working on all sizes of farms, plantations and unorganized sectors are at risk of being deprived of the necessary public health and social protection. Women workers in particular are at high risk. As many as 20 million low-income working people’s income source has now completely stopped and they have become unemployed and their condition has come to a miserable stage due to the ongoing shutdown as most of them usually live their life by earning on a daily basis.

Along with the workers, small and medium farmers are facing huge financial losses after the shutdown had started on March 2020 with a view of flattering the curve of Coronavirus. Farmers are unable to reach the market due to collapsed distribution network. They could not supply perishable produce like vegetables, eggs and milk to market despite of having demand for such fresh products. So farmers are facing extreme financial hardships losing their capital. Many farmers will be unable to produce in the days ahead.

The global food crisis is likely to be affected by coronavirus. In this case, it is important to continue producing local food for the sake of country’s food security. Therefore, appropriate measures should also be taken to encourage and support local food production without putting the health and safety of agricultural workforce at risk. We welcome the Prime Minister's announcement of bailout package of providing capital support to farmers to continue food production. However, considering the emergency sector, this incentive must be unconditional. It is urgently necessary and reasonable to provide this incentive without interest for agriculture sector and to extend its coverage. At the same time, in the fight to contain the spread of COVID-19 a comprehensive effective initiative must be taken to ensure country’s food sovereignty and people’s right to food, as well as ensuring  food and housing security and avoiding unnecessary exposure of  health and safety risk of  agricultural workers and people in agriculture communities.

Since agricultural workers are essential for food security, BAFLF & NWFA call on government to implement the following measures to protect agricultural workers, farmers and their families.

1.     Ensure that three-month emergency wage assistance is provided to all workers including workers engaged in non-formal farming, financially impacted by COVID-19, for the reason such as lose of work,lose of market, illness, or unpaid  self-isolation.

2.     In recognition of the essential services that agricultural workers provide, wage for agricultural workers must immediately be increased along with risk allowance.

3. Employer must provide transportation to and from the farm and ensure physical distancing to the transport. Vehicles must be regularly disinfected and adequate safety measures will be provided to the transport workers.

4. In the upcoming paddy harvesting season, government must arrange transportation for workers to and from farms and ensure physical distancing to the govt. provided transport and the vehicles must be disinfected regularly.

5.  Workers working on farms/fields must always have access to adequate drinking water, sanitation facilities, all necessary protective clothing and disinfectant.

6.  Include agriculture workers in social security and health insurance schemes like workers in other sectors.

7.    The rights of women workers must be ensured: special attention must be paid to their income and social protection, maternity protection, postnatal care, appropriate protective equipment and protection from sexual harassment.

8.    Small scale and medium farmers, people engaged in poultry and dairy farms should be included in the emergency cash incentive package.

9.     In collaboration with union/farmers’ organization and other local stakeholders prepare a list of sharecroppers, landless and marginal farmers working informal agriculture affected by COVID-19 outbreak and  must take immediate measures to provide them  compensation. To support local food production they are also included in the cash incentive package and provide unconditional cash support.

10. With the help of  union/farmers’ organization and other local stakeholders under the supervision of the District Commissioner, a list of the victims in the rural areas must be prepared and emergency relief should be provided to the effected people.

11. Since small scale and marginal  farmers are unable to sell the produce, they are facing  financial loses and do not have available  cash capital. Appropriate measures to be taken  to give them immediate cash assistance for harvesting with zero interest.

    12. Immediately implement measure to waive agricultural loan payment to              affected farmers.



Friday, April 17, 2020


কভিড-১৯ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্থ খামার ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কৃষি শ্রমিকদের জন্য

মজুরী প্রণোদনা ও ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য মূলধন প্রণোদনা দিতে হবে।

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন এর সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ এবং জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রীমা আক্তার এক যৌথ বিবৃতিতে করোনা পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্থ খামার ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কৃষি শ্রমিকদের জন্য মজুরী প্রণোদনা এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষীদের জন্য মূলধন প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয় বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের প্রথম আঘাতটা এসেছে শ্রমজীবী মানুষের উপর। দেশব্যপী লকডাউন, গণপরিবহন চলাচল বন্ধকরে দেওয়া এবং জরুরী নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা কৃষি শ্রমিকসহ অসংগঠিত খাতের সকল শ্রমিক এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের আয়, জীবন-জীবিকা, তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হুমকি স্বরূপ। সকল ধরনের খামারে, প্লান্টেশনে এবং অসংগঠিত খাতে কাজ করা শ্রমিকেরা প্রয়োজনীয় জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিকরা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।  প্রায় ২ কোটি নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়ায় তাদের অবস্থা শোচনীয় পর্যায় চলে এসেছে।

শ্রমিকদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কৃষকরা সবজি, ডিম ও দুধের মতো পচনশীল পণ্য চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে মূলধন হারিয়ে চরম দূর্গতির মুখোমুখি হওয়া বেশিরভাগ কৃষক আগামী দিনগুলোতে উৎপাদন করতে পারবেন না।
করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট দেখা দিবে বলে আশংকা প্রকাশ করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখাটা জরুরি। তাই স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত ও সহায়তা করার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থাও গ্রহণ করতে হবে। খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে ক্ষুদ্র এবং মাঝারি চাষীদের মূলধন যোগাতে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনার ঘোষনাকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে জরুরী খাত বিবেচনায় কৃষির জন্য এই প্রণোদনা সুদমুক্ত করা এবং এর পরিধি বাড়ানো জরুরী প্রয়োজন ও যুক্তিসংগত। একই সঙ্গে কৃষি শ্রমিক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য ও বাসস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুঁকি যেন না থাকে সেটি নিশ্চিত করে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় খাদ্যের সার্বোভৌত্ব ও সকলের খাদ্যের অধিকার নিশ্চিত করা জন্য একটি সমন্বিত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন করতে হবে।

যেহেতু কৃষি শ্রমিক খাদ্য সুরক্ষার জন্য অপরিহার্য, তাই বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন কৃষি শ্রমিক এবং তাদের পরিবারগুলোকে রক্ষা করতে নিম্ন লিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

১. রফতানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায় কর্মহীন, অসুস্থতা বা সেলফ আইসোলেশনে থাকার মতো কভিড-১৯ দ্বারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ খামার, অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষিকাজে নিয়োজিত সকল শ্রমিকদের তিন মাসের আপৎকালীন মজুরী সহায়তা প্রদান নিশ্চিত করা।

২. কৃষি শ্রমিকরা যে অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদান করে তার স্বীকৃতিস্বরূপ অবিলম্বে তাদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করতে হবে এবং তাদেরকে ঝুঁকিভাতা প্রদান করতে হবে।

৩. প্রাতিষ্ঠানিক খামারে যাতায়াতের জন্য নিয়োগকর্তা কর্তৃক পরিবহন সরবরাহ করতে হবে এবং সরবরাহকৃত পরিবহণগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং যানবাহনগুলি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে এবং পরিবহন শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৪. আসন্ন ধানকাটা মৌসুমে শ্রমিকদের গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিবহন সরবরাহ করতে হবে এবং সরবরাহকৃত পরিবহণগুলোতে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করতে হবে এবং যানবাহনগুলি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

৫. কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সবসময় অবশ্যই পর্যাপ্ত পানীয় জল, স্যানিটেশন সুবিধা, প্রয়োজনীয় সমস্ত সুরক্ষামূলক পোশাক এবং জীবানুনাশক ব্যাবস্থার সুবিধা থাকতে হবে।

৬. অন্যান্য খাতের শ্রমিকদের ন্যায় কৃষি শ্রমিকদেরও সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য বীমার স্কিম-এ অন্তভর্ক্ত করতে হবে।

৭. নারী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: বিশেষত তাদের আয় এবং সামাজিক সুরক্ষা, প্রসূতি সুরক্ষা, প্রসবোত্তর যত্ন, যথাযথ প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম এবং যৌন হয়রানির হাত থেকে সুরক্ষার প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।

৮.ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষক, পোলট্রি ও দুগ্ধ খামারিদের মুলধন প্রণোদনা প্যাকেজের অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।     
 
৯. করোনাভাইরাস এর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বর্গাচাষী, অপ্রাতিষ্ঠানিক কৃষি কাজ করেন এমন ভূমিহীন ও প্রান্তিক চাষীদের তালিকা তৈরী করে তাদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং রেশনের ব্যবস্থা করা। এদেরকেও প্রণোদনা প্যাকেজের অর্ন্তভূক্ত করা এবং বিনা সুদে মূলধন যোগান দেওয়া।

১০. জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় কৃষক ও কৃষি শ্রমিক সংগঠনের সহায়তায় গ্রামীণ অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করতে হবে এবং জরুরী ত্রাণ সরবরাহ করতে হবে।

১১. ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীরা যেহেতু উৎপাদিত ফসল বিক্রয় করতে না পারায় যেহেতু আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে এবং তাদের নগদ টাকার অভাব রয়েছে। সুতরাং এদেরকে আপৎকালীন নগদ টাকা সহায়তা দেওয়া এবং বিনা সুদে মূলধন যোগান দেওয়া।

১২. ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের কৃষি ঋন মওকুফ করা।



Wednesday, December 18, 2019

বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালন

অভিবাসীকর্মীরাও অবশ্যই সম্মান ও নিরাপত্তা আশা করে

১৮ ডিসম্বের, ২০১৯। আজ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইন্সটিউট (ব্রি) তে অনুষ্ঠিত এক সামবেশে অভিবাসী কর্র্মীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন ও জাতীয় কিষাণি শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তারা এসব কথা বলেন। সমাবেশে উল্লেখ করা হয়যে,  ৪ ডিসেম্বর ২০০০ তারিখে গৃহীত জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতিবছর ১৮ ডিসেম্বর সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসটি পালনের উদ্দেশ্য হচ্ছে অভিবাসীকর্মীদের নিজেদের দেশের ও কর্শরত দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদানের জন্য স্বীকৃতি প্রদান এবং তাদের মৌলিক মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা।

সমাবেশে গোলাম ছরোয়ার বলেন, অভিবাসী হওয়ার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে বাংলাদেশিদের অবস্থান ষষ্ঠ। ২০১৯ সালের এক হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় ৭৮ লাখ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বাস করছেন। তাঁদের বেশির ভাগই জীবিকার তাগিদে শ্রমিক হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অস্থায়ীভাবে অভিবাসন নিয়েছেন। আবার কেউ উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশে স্থায়ী অভিবাসী হয়েছেন। তিন দশকের ব্যবধানে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা ৪০ শতাংশের বেশি বেড়েছে । এভাবেই বছরের পর বছর এ দেশের লাখ লাখ মানুষ জীবিকার তাগিদে ও ভালো থাকার আকাংখায় দেশান্তর হয়েছেন।

মামুন হোসেন বলেন,  বাংলাদেশিরাই শুধু অভিবাসী হন না, বাংলাদেশেও বিদেশিরা আসেন। মিয়ানমার থেকে বিশাল রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত হয়ে শরণার্থী হিসেবে বাংলাদেশে বসবাস করছে। জাতিসংঘের হিসাবে, এমন শরণার্থীর সংখ্যা এখন ৯ লাখ ৩২ হাজার। নব্বইয়ের দশকে এই সংখ্যা এক লাখের কম ছিল। শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্থানে আছে। শীর্ষে আছে পাকিস্তান। পাকিস্তানে প্রায় ১৪ লাখ শরণার্থী আছে।

নুরজাহান বেগম বলেন,  আমাদের অভিবাসীকর্মীরা শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করে রাখছে না, কর্মরত দেশগুলোর অর্থনীতিতেও মূল্যবান অবদান রেখে যাচ্ছে। আমাদের এই কর্মীদের ঘামের ওপরই ওই দেশগুলোর উন্নয়ন ঘটছে। তারাই ওই দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রাকে করেছে সহজতর ও আরামদায়ক। তাদের ছাড়া ওই সব দেশ একটুও এগোতে পারে না। কিন্তু বিনিময়ে এই অভিবাসীকর্মীরা কি আদৌ কোনো সম্মান পাচ্ছে? মানব ব্যবসায়ী ও নিয়োগকর্তাদের শোষণ আর নিপীড়ন ছাড়া তাদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না। সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয় লোভী দালালদের মাধ্যমে যাওয়া এবং অবৈধভাবে কমরত অভিবাসীরা। অন্যদিকে আমাদের নারী কর্মীরা হচ্ছে শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার।

সমাবেশের সভাপতি আব্দুল মজিদ বলেন, বাংলাদেশি অভিবাসীকর্মীদের ৮০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এবং মালয়েশিয়ায় কাজ করছে। ওই সব দেশে অভিবাসীকর্মীদের অধিকার রক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই তাদের অধিকার সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন বা অবহেলা করা হয়। অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণœ করা সত্তে¡ও ওই সব দেশের প্রশাসনের বদান্যতায় নিয়োগকর্তারা রয়ে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে। অভিবাসীদের অধিকারসংক্রান্ত  কোনো আন্তর্জাতিক কনভেনশনের তোয়াক্কা করে না ওই সব দেশের মানুষ। এ ছাড়া স্থানীয় আদালত সে দেশের লোকজনকেই সমর্থন করে থাকেন। অর্থাৎ অভিবাসীকর্মীরা ন্যায়বিচার পায় না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে অভিবাসীকর্মীরাও আমাদের মতোই মানুষ। তারা অবশ্যই সম্মান ও নিরাপত্তা আশা করে।




Bangladesh Agricultural Farm Labour Federation and National Women Farmers Association Observed the International Migration Day

Immigrant Workers Must Also Get Respect and Security

18 December 2019. Leaders of Bangladesh Agricultural Farm Labour Federation and National Women Farmers and Workers Association demanded respect and security of migrant workers at a rally held at Bangladesh Rice Research Institute (BRRI) today. They were speaking at an event organized to celebrate International Migrants Day. According to the rally, the day is celebrated all over the world on 18 December each year, according to the UN decision adopted on December 4 of 2000. The purpose of International Migrants Day is to recognize migrant workers for their contribution to the economy of their own country and to the country they are working in and to respect their basic human rights.
Speaking at the rally, Golom Sorowor said that Bangladeshis are sixth in the world in terms of migrant workers working in different countries. According to an estimate of 2019, about 75 lakh Bangladeshi people live in different countries of the world. Most of them have migrated temporarily to the Middle East as workers to earn a living. Someone has immigrated to developed countries like the United States, Canada, the United Kingdom, Australia, in hopes of a better life. In the span of three decades, the number of Bangladeshi migrants has increased by more than 40 percent. Thus, over the years millions of people have migrated to other countries for the sake of livelihood and the longing for good.
Mamun Hasan said Bangladeshis are not only migrants, but foreigners also come to Bangladesh. Large Rohingya people are displaced from Myanmar and are living in Bangladesh as refugees. As of the United Nations, the number of such refugees is now 9 lakh  32 thousand. In the nineties, that number was less than one lakh. Bangladesh is second in South Asia in providing shelter to refugees. Pakistan is at the top. There are about 14 lakh refugees in Pakistan.
Nurjahan Begum said, our migrant workers are not only boosting Bangladesh's economy but also contributing to the economy of the working countries. These countries are developing on the sweat of our people. They have made the lives of people in those countries easier and more comfortable. Without them, all those countries could not move forward. But are these migrants getting any respect at all? Human traders and employers have nothing to do with their destiny without exploitation and oppression. The most abused victims are greedy brokers and illegal immigrants. On the other hand, our women workers are victims of physical and sexual abuse.
The chair of the event, Abdul Mazid, said that  80 percent of Bangladeshi migrant workers are working in the Middle East countries and Malaysia. In those countries, there is not enough system to protect the rights of migrant workers. In most cases, their rights are completely violated or neglected. Despite undermining the rights of immigrants, employers remain outside the reach of the administration of those countries. The people of those countries do not favor any international convention on the rights of immigrants. In addition, the local court supports the people of that country. That is, migrant workers do not get justice. We have to remember that immigrant workers are just like us. They certainly expect respect and security.